জুমুয়ার নামাজে খুত্‌বা শোনার ফযিলত 1

শাইখ সালীহ আল মুনাজ্জিদ


জুমুয়ার নামাজে খতীবের খুত্‌বা শোনা ওয়াজিব। খুত্‌বা চলাকালীন মুসল্লিদের জন্য কথাবার্তা বলা নিষেধ। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করলে আমরা জুমুয়ার খুত্‌বার ফযিলত সম্পর্কে ধারণা পাই,  

এক জুমুয়া থেকে আরেক জুমুয়ার মাঝের গূনাহের কাফফারাঃ

হযরত আবু হূরায়রাহ্‌ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন,

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিনে গোসল করল, এরপর জুমুয়ায় গেল, নির্ধারিত সালাত আদায় করল, মন দিয়ে খুত্‌বা শেষ পর্যন্ত শুনলো, এরপর ইমামের সাথে সালাত আদায় করল, তার সেই জুমুয়া থেকে পরবর্তী জুমুয়া পর্যন্ত এবং আরো তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।”

(বুখারী-৮৮৩, মুসলিম-৮৫৭)

জুমুয়ার নামাজ আদায়ের উদ্দেশে রওয়ানা হলে প্রতি পদক্ষেপে পূর্ণ এক বছর নফল রোযা এবং নফল সালাতের সওয়াব লেখা হয়

আওস বিন আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন,

“যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিনে গোসল করে, অতঃপর নামাজের জন্য পায়ে হেটে রওয়ানা দেয়, ইমামের কাছাকাছি বসে খুত্‌বার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে শোনে, তার প্রতিটা পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোযা এবং নফল নামাজের সওয়াব লেখা হয়।”

(তিরমীযী-৪৯৬, বায়হাকী-৩/২২৭, আলবানী এটাকে সহীহ বলেছেন)

 

জুমুয়ার নামাজের সওয়াব মন দিয়ে খুত্‌বা শোনার উপরই নির্ভর করে

হযরত আবু হূরায়রাহ্‌ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,

“জুমুয়ার দিনে কোন মুসল্লী খতীবের খুতবা চলাকালীন সময়ে যদি তার সাথীকে এটুকুও বলে যে, ‘মন দিয়ে খুতবা শোন!’ তাহলে সেও অনর্থক কথায় লিপ্ত হল।”

(সহীহ বুখারী-৯৩৪, মুসলিম-৮৫১)

জুমুয়ার দিনে মন দিয়ে খুত্‌বা শ্রবনকারীর জন্য দুই কাফ্‌ল (দুই গুণ) নেকী

একবার হযরত আলী (রাঃ) কুফায় খুতবা দেয়ার সময় বলেছিলেন,

“জুমুয়ার নামাজে এসে কোন ব্যক্তি যদি এমন জায়গায় বসে যেখান থেকে সে ইমামকে শুনতে এবং দেখতে পায়, অতঃপর মন দিয়ে খুতবা শোনে, কোন প্রকার অসার কথা বা কাজে লিপ্ত হয়না, ধীরস্থির থাকে, তার জন্য দুই কাফ্‌ল (গুণ) নেকী লেখা হয়; আর কেউ যদি এমন দুরত্বে বসে, যেখান থেকে সে খুত্‌বা শুনতে পায়না, তবুও মন দিয়ে খুতবা শোনে,কোন প্রকার অসার কথা বা কাজে লিপ্ত হয়না, ধীরস্থির থাকে, তার জন্য এক কাফ্‌ল (গুণ) নেকী লেখা হয়। আর কেউ যদি এমন জায়গায় বসে, যেখান থেকে সে খুতবা শুনতেও পায়, খতীবকে দেখতেও পায়, কিন্তু মন দিয়ে খুতবা শোনে না, অসার কথাবার্তা এবং ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত হয়, তার জন্য এক কাফ্‌ল (গুণ) গূনাহ লেখা হয়।”

এরপর তিনি উল্লেখ করলেন যে, রাসুল (সাঃ) কে তিনি এটা বলতে শুনেছেন।

(আবু দাউদ-১০৫১, আলবানী এটাকে দুর্বল বলেছেন, একই ধরনের মারফু বর্ণনা এসেছে আবু উমামা হতে মুজাম আল কাবীর-৮/১৬৫ এ, এবং ইয়হিয়া ইবনে আবি কাসিরের মুরসাল বর্ণনায়, মুসান্নাফ আব-আল রাযযাক-৩/২২৩ এ)

আল্লাহ সবথেকে ভাল জানেন।  

One Comment

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: