পৃথিবীতে শান্তির দাওয়াত- আন- নববী (রহঃ) Leave a comment


পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
—————————————————–

শাইখ আন নববী (রহঃ) তাঁর রিয়াদুস সালেহীন কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ 

মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেনঃ

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।  (সুরা নুর-২৭)

তেমনিভাবে অন্যত্র মহান আল্লাহপাক আরো এরশাদ করেছেনঃ

আপনার কাছে ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি? যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ সালাম, তখন সে বললঃ সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক।  (সুরা যারিয়াতঃ ২৪-২৫) 

আল্লাহতাআলা আরো বলেনঃ

আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাবনিকাশ গ্রহণকারী। 
 (সুরা নিসাঃ ৮৬)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ এক লোক মহানবী মুহম্মদ (সাঃ) কে প্রশ্ন করে, “ইসলামে কোন কাজ সবচেয়ে উত্তম?” নবী (সাঃ) উত্তর দিলেন, “অপরকে খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়া” 

হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তিনটি গুণ অর্জন করতে পেরেছে, তাঁর ইসলাম পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে তিনটি গুণ হলঃ অপরের প্রতি সু আচরণ করা, পৃথিবীতে শান্তি ছড়িয়ে দেয়া বা শান্তি কামনা করা এবং অভাবের সময় দান খয়রাত/সদাকা করা।”

সূত্রঃ সহীহ বুখারী ২৮, মুত্তাফাক্বুন আলাইহি

হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ 

“যখন মহান আল্লাহতাআলা আদমকে সৃষ্টি করলেন, তিনি তাঁকে বললেনঃ যাও এবং এখানে একত্রিত ফেরেশ্তাদেরকে সালাম জানাও। এরপর শুনে নাও তাঁরা কিভাবে সালামের উত্তর দেয়। কারণ তোমার পরবর্তী বংশধরেরা এই সালামের মাধ্যমেই পরস্পরকে অভিবাদন জানাবে। এরপর আদম ফেরেস্তাদেরকে সালাম জানালেন। উত্তরে ফেরেস্তারা বললেনঃ আসসালামুয়ালাইকা ওয়ারহমতুল্লাহ।”

সূত্রঃ সহীহ বুখারী ৫৮৭৩, মুত্তাফাক্বুন আলাইহি।

আল বারা ইবনে আযিব উল্লেখ করেছেনঃ

আমাদের নবী (সাঃ) আমাদেরকে সাতটি কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেনঃ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, মুসলিমের জানাযায় অংশগ্রহণ করা, কেউ হাঁচি দিলে আলহামদুলিল্লাহ বলা, কেউ সালাম দিলে উত্তর দেয়া, কেউ দাওয়াত দিলে তা কবুল করা, অপরকে ওয়াদা পুরনে সহায়তা করা এবং মযলুমকে সাহায্য করা।”

সূত্রঃ সহীহ বুখারী ৫৫২৫, মুত্তাফাক্বুন আলাইহি।

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবেনা যতক্ষণ না পূর্ণ ঈমানদার হও, আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবেনা যতক্ষণ না একজন আরেকজনকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদের বলে দিব না, যে কি কাজ করলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে মহব্বত পয়দা হবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার কর

সূত্রঃ সহীহ মুসলিম ৫৪। 

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ

হে লোকেরা, তোমাদের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও, অপরকে খাবার খাওয়াও, রাতে সেই সময় সালাত আদায় কর যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে তুমি নিশ্চিন্তে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সূত্রঃ সুনান ইবনে মাযাহ ১৩৩৪, হাদীসটি সহীহ।

আত-তুফায়েল ইবনে আবি ইবনে ক্বাব হতে বর্ণিত হয়েছেঃ আমি যখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) এর সাথে বাজারে যেতাম, দেখতাম তিনি সেখানে যাকেই দেখতেন তাকেই সালাম দিতেন। হোক সেই ব্যক্তি দোকানদার অথবা অত্যন্ত দরীদ্র। আরেকদিন আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ঊমর (রাঃ) এর কাছে গেলাম এবং আমার সাথে বাজারে যেতে বললাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “বাজারে যদি আপনার কেনাকাটা অথবা অন্য কোন কাজ না থাকে তাহলে আপনি কি করবেন?” ইবনে ঊমর (রাঃ) আমাকে উত্তর দিলেন, “হে মোটা পেটওয়ালা, আমরা সেখানে যাই শুধুই লোকজনকে সালাম দিতে। যার সাথেই আমাদের দেখা হয়, তাকেই আমরা সালাম দেই।”

সূত্রঃ মুয়াত্তা ১৭৯৩, সহীহ। 

সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। 
                                                                                           (শাইখ আবু আমিনাহ ইলিয়াসের লেখা থেকে)

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: