বান্দার এই ব্যাপারে আল্লাহ্‌ কোন কিছুরই পরোয়া করেন না। একবার পড়ুন, জীবন পাল্টে যেতে পারে।। Leave a comment

মহান আল্লাহ তায়ালা জিনকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। মানুষের মাঝে যারা মুসলিম, তারা আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নিয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে মহান আল্লাহ তা’আলার সাথে গভীর সম্পর্ক এবং যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল। একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে সম্মানের এবং বড় পাওয়া এটাই যে, সে সালাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহতালার সামনে দাঁড়াতে পারে।

মুসলিমদের কল্যাণে মহান আল্লাহতালা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সৃষ্টি করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে রোজা রাখা, যাকাত আদায় করা এবং আরো অনেক শাখা-প্রশাখা। ইসলামের সমস্ত নিয়মকানুন আদব-কায়দা শুধুমাত্র একটা উদ্দেশ্যে আমাদেরকে দেয়া হয়েছে এবং তা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা। এবং তার সাথে গভীর সম্পর্ক রাখা মহান আল্লাহ পাক এই সমস্ত ইসলামের বিষয়গুলোতে আমাদেরকে শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে অনেক বড় রাহমানুর রাহিম এর পরিচয় দিয়েছে দিয়েছেন।

তবে আমরা মুসলিমরাই আমাদের মানসিক দৈন্যতা এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান না থাকার জন্য এই সম্পর্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা ধারনাই করতে পারিনা যে, মহান আল্লাহ পাক তার বান্দাকে কতটা ভালোবাসে, কতটা মর্যাদা দেন, কতটা সম্মান দেন। যে সম্পর্কে বান্দার এবং আল্লাহর মাঝে আর কোন কিছুই থাকেনা, সে সম্পর্ক হয়ে থাকে অত্যন্ত মজবুত।

মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর কালাম কুরআনুল কারীমে বলেছেন

“আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে।”

(২ঃ১৮৬)

তিনি আরো বলেন,

“অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।”

(৩২ঃ৯)

এছাড়াও বিভিন্ন হাদিসের গ্রন্থে বান্দা সম্পর্কে মহান আল্লাহপাকের বিভিন্ন ঘোষণা এসেছে।

আল্লাহতাআলা বলেন,

“আমি বান্দার সাথেই থাকি যখন সে আমাকে স্মরন করে। যদি সে আমাকে একাকী স্মরণ করে, আমিও তাকে একাকী স্মরণ করি। সে যদি কোন মজলিসে আমাকে স্মরন করে, আমি তাকে এর থেকেও অনেক উত্তম মজলিসে স্মরন করি।”

(বুখারী ও মুসলিম)

……….আমি তাদের অর্থাৎ মানুষ এবং জিন সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি অথচ তারা আমাকে বাদ দিয়ে অন্যদের ইবাদত করে। আমি তাদের উপর আমার রহমত অঝোর ধারায় বর্ষণ করেছি অথচ তারা অন্যের শুকরিয়া আদায় করে। যখন আমার রহমত আমার বান্দাদের উপর বর্ষণ হতে থাকে তখন তাদের বদ আমল আমার কাছে আসতে থাকে। যখন আমি আমার রহমত দিয়ে তাদের কাছাকাছি যাই, তারা তাদের অবাধ্যতা দিয়ে আমার থেকে দূরে চলে যায়।

(বায়হাকী)

উপরের শুধুমাত্র কয়েকটি হাদিস দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে মহান আল্লাহ পাক তার বান্দাকে কতটা ভালোবাসেন। যুগে যুগে এর স্বাক্ষর চিহ্ন আমরা দেখতে পেয়েছি। আল্লাহ্‌ যখন বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তিনি কোনকিছুরই পরোয়া করেন না। এবং বান্দা যখন আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন তিনি অবশ্যই এমন এক উপায় সৃষ্টি করে দেন যা তার বান্দা কখনো কল্পনাও করেনি। বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার ব্যাপার টা আরো ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য নিচে তিনটি ঘটনা আলোচনা করা প্রাসঙ্গিক।

প্রথম ঘটনা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মদিনার শাসক। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অহী নাযিল হয়েছে এবং হচ্ছে। এভাবে সূরা নূর এর প্রথম আয়াত নাজিল হলো। যিনার ব্যাপারে কোন নালিশ করা হলে সাক্ষী উপস্থিত করার ব্যাপারে আদেশ দেয়া হয়েছে।

যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।

সূরা নূর, আয়াত ৪

এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন সাহাবী, ইবনে উমাইয়া এশার নামাজের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। তিনি ছিলেন ওই তিন ব্যক্তির একজন যাদের তওবা কবুল হয়েছিল। ঘটনাটি হচ্ছে এরকম যে, তিনি এশার সময় মাঠ থেকে বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে এসে তিনি একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর পাশে দেখতে পান। তিনি স্বচক্ষে দেখেন এবং নিজের কানে তাদের কথা শুনতে পান। পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি কিছুই বললেন না। সকাল হলেই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইসাল্লাম এর কাছে হাজির হন। এবং তাকে বলেন যে, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাতে আমি যখন মাঠ থেকে ফিরে আসি, তখন আমার স্ত্রীর পাশে এক লোককে আমার নিজ চোখে দেখতে পাই এবং নিজ কানে তাদের কথা শুনতে পাই। এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাম এর কাছে খুবই খারাপ বোধ হয় এবং তার স্বভাবের উপর খুবই কঠিন ঠেকে। তা দেখে সাহাবীগণ একত্রিত হন এবং বলতে শুরু করেন, এর কারণে (ইবনে উনাইয়া) তো আমরা বিপদে জড়িয়ে পড়লাম।

অতঃপর সেই সাহাবী বলেন, হে আল্লাহর রাসূল আমি দেখছি যে আমার কথা আপনার স্বভাববিরুদ্ধ হয়েছে। হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে আমি সত্যবাদী এবং আল্লাহই ভালো জানেন । কিন্তু রাসুল (সাঃ) তাঁর সাহাবীর নালিশ অনুযায়ী ৪ জন সাক্ষী হাজির করতে আদেশ দিলেন। কিন্তু তিনি সাক্ষী হাজির করতে অপারগ ছিলেন। আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুযায়ী ইবনে উমাইয়া কে চার জন সাক্ষী হাজির করতে হবে, না হলে তার ওপর ৮০ বেত্রাঘাত কার্যকর হবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বললেন যে, সে সাহাবী যা বলেছে তার জন্য যেন চারজন সাক্ষী হাজির করে, তা নাহলে যেন ৮০টি বেত্রাঘাত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিসসাল্লাম তাকে চাবুক মারার নির্দেশ দিতে উদ্যত হচ্ছিলেন। উপায়ান্তর না দেখে সেই সাহাবী আল্লাহর কাছে বড় আশা নিয়ে বলেছিলেন যে, আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তার ব্যাপারে আয়াত নাযিল করবেন। অতঃপর হদ কার্যকরী হওয়ার আগেই আল্লাহর পক্ষ হতে আয়াত নাযিল হওয়া শুরু হয়। সাহাবীগন রাসূলের মুখমণ্ডল দেখে বুঝতে পারছিলেন যে, অহী নাযিল হচ্ছে। তা ছিল সূরা নূরের অন্যান্য আয়াত।

এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।

সুরা নুর, ৬-৭

এরপর যখন অহী নাযিল শেষ হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাম সাহাবীকে বল্লেন, আল্লাহ তায়ালা তোমার পথ সহজ করে দিয়েছেন এবং তোমার মুক্তি ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং তুমি খুশি হয়ে যাও। তখন সাহাবী বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহর কাছে আমি এটাই আশা করছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিসাল্লাম দুজনকে লিআনের আয়াত পাঠ করে শুনিয়ে দেন এবং লিআন কার্যকর করেন। আবু দাউদ এবং তিরমিজী শরীফে এর বর্ণনা আছে।
দেখুন মহান আল্লাহপাক তাঁর বান্দার ব্যাপারে কত দয়াময়। যখন সাহাবী ইবনে উমাইয়া দেখলেন যে তাঁর উপর হদ্দ প্রয়োগ হতে যাচ্ছে। এবং যেহেতু আল্লাহর আইনের অন্যথা করার কোন এখতিয়ার ও রাসুলের ছিলনা, তাই তিনি তখন আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন এবং আল্লাহর প্রতি বড় আশা নিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থণা করলেন। আল্লাহ তার দোয়া কবুল করলেন এবং তাকে অনেক বড় অপমান থেকে বাঁচালেন।

শুধু সাহাবী নন, প্রত্যেক মুসলমানই আল্লাহর কাছে এরকম দামী। সমস্যা আমাদের, কারণ আমরা আমাদের মূল্য বুঝিনা। আমরা আমাদের রব্বকে চিনিনা। আমরা আমাদের মানসিক কৃচ্ছতা দিয়ে রব্বকে দেখি। কিন্তু আমাদের রব্বতো অসীম দয়াবান।

দ্বিতীয় ঘটনা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী ছিলেন আউশ ইবনে সামিত (রাঃ)। তিনি অতি বৃদ্ধ ছিলেন। তার স্ত্রী ছিলেন খাওলা (রাঃ)। একবার ইবনে সামেত বাইরে থেকে বাসায় আসেন এবং স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চান। কিন্তু খাওলা (রাঃ) এমন কথা বলে ফেলেন যে এতে তার স্বামী অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং যিহার করে ফেলেন। অর্থাৎ তার স্ত্রীকে তিনি বলেন যে, তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মত। অতঃপর তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি আবার ফিরে আসেন এবং আবার তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে চাইলে হযরত খাওলা অস্বীকার করেন। বলেন যে, তিনি কখনোই যিহার করার কারণে তার স্বামীর এই মনোবাসনা পূর্ণ করবেন না। যতক্ষণ না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না দেন। কিন্তু সেই সাহাবী মিলিত হওয়ার জন্য জোরজবরদস্তি করতে লাগলেন এবং তার স্ত্রী তাকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হলেন। অতঃপর পাশের বাসা থেকে একটি কাপড় ধার করে সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কাছে যান। সেখানে তিনি সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

তখনকার সময়ে আরবের কৃষ্টি ছিল কেউ যদি তার স্ত্রীকে তার মায়ের পিঠের মতো বলে সম্বোধন করে তাহলে সেই স্ত্রী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। হযরত খাওলা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কাছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সে আমার সম্পদ ব্যবহার করেছে। আমার যৌবন তো তার সাথেই কেটেছে। আমি তার জন্য গর্ভধারণ করেছি। এখন আমি বুড়ি হয়ে গেছি। এমতাবস্থায় আমার স্বামী আমার সাথে জিহার করেছে। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এব্যাপারে এ ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তোমার স্বামীর ব্যাপারে তুমি আল্লাহকে ভয় করো। কিন্তু হযরত খাওলা তখন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহ আমি আপনার সামনে দুঃখের কান্না করছি।অতঃপর হযরত খাওলা রদিয়াল্লাহু ঘর হতে বের ও হয়নি এমতাবস্থায় জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এই আয়াতটি নিয়ে অবতীর্ণ হন। সেখানে আল্লাহতালা যিহার শুধুমাত্র বাতিলই করেননি বরং যিহার করার জন্য স্বামীকে কাফফারা দেয়ার আদেশ প্রদান করেন।
কি অতুলনীয় ভালোবাসা আল্লাহ তাআলার তার বান্দার প্রতি। হযরত খাওলা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কোথাও কোনো উপায় না দেখে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই তার অভিযোগ পেশ করলেন। আর সেই অভিযোগ জমিন থেকে সাত আসমান ছাপিয়ে আরশ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। এই হচ্ছে আল্লাহর সাথে তার বান্দার সম্পর্ক।

তৃতীয় ঘটনা

বিভিন্ন রেওয়ায়েতে এই ঘটনার বর্ণনা এসেছে। ঘটনাটা মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার উম্মতের মধ্যে এক পাপীর কাহিনী। একবার মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বন্ধ করে দিলেন, ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয় যে তার কওমের মাঝে এক পাপী বান্দা রয়েছে। যার পাপের কারণে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বন্ধ রেখেছেন। সেই ব্যক্তিটি ৪০ বছর যাবত এই গুনাহ করে যাচ্ছে। অতঃপর মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের সবাইকে একটি স্থানে ডেকে একত্র করলেন। ঘোষণা করলেন যে, তাদের মধ্যে যে পাপী ব্যক্তি আছে সে যেন এই স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। যাতে অন্য সবাই বৃষ্টির নিয়ামত হতে বঞ্চিত না হয়। ঘোষণার পর সেই পাপী বান্দা খুব অনুতপ্ত হয়।পুরো গোত্রের সামনে নিজের নাম এবং পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাবে এটা ভেবে সে খুবই লজ্জিত হয়। এরপর সাথে সাথে মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করে এবং অনুতপ্ত হয়ে দোয়া করে বলে যে, আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে দেয়। অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে দেরি কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা হতে দেরি হয় নাই।

আল্লাহ তায়ালা তখন তাকে মাফ করে দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। ঘটনায় মুসা (আঃ) অত্যন্ত অবাক হন। তখন তিনি আবার আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান যে, হে আল্লাহ কেউতো বের হয়নি, অথচ বৃষ্টিপাত হলো! তখন মহান আল্লাহতায়ালা মূসা আলাইহিস সাল্লাম কে জানালেন যে, যে পাপী বান্দার কারণে বৃষ্টিপাত হচ্ছিল না, সে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করেছে। তাই আমি তাকে মাফ করে দিয়েছি। এজন্য বৃষ্টিপাত এজন্য আমি বেশি দান করেছি। তখন মূসা আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহতাআলাকে অনুরোধ করে জাওনতে চান যে, কে সেই বান্দা যার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দিয়ে এত সম্মানিত করে দিয়েছেন? কিন্তু তখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে জানানো হলো, যে বান্দা পাপী অবস্থায় ৪০ বছর ছিল অথচ তার নাম আল্লাহতালা প্রকাশ করেননি। সেই বান্দা যখন তওবা করে খাঁটি তওবাকারী হয়ে গেল, সে অবস্থায় কিভাবে তিনি সেই বান্দার নাম প্রকাশ করে করতে পারেন। মহান আল্লাহতাআলা মুসা (আঃ) এর এই অনুরোধ কবুল করলেন না। মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাকে এতটাই ভালবাসেন যে একজন নবী যখন নাম জানতে চাইলেন তখন ও আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার সম্মান মর্যাদা বজায় রাখার জন্য তার নামটি বলেন নি।
সুবহানাল্লাহ।

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: