রাসুল সাঃ যে বিশেষ চার উপায়ে দান সাদাকা করতেন!!!! Leave a comment

 
 
আমাদের দয়ার নবী মায়ার নবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য উদারতার এক অনুপম দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। তিনি তার কওম বা গোত্রের কাছে এবং তথা সমগ্র মানবজাতির কাছে সবচেয়ে বেশি দান্শীল মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। তার সীরাত লক্ষ্য করলে আমরা তা জানতে পারি ।তার এই উদারতার ব্যাপারে সহীহ বুখারীতে বর্ণনায় এসেছেঃ
 

“ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা…………………”

 
 তিনি শুধু নিজেই উদার ছিলেন না বরং তার সাহাবীদেরকে এবং সেই সাথে তাঁর উম্মতকেও উদারতা, আরেকজনকে সাহায্য করা,  বদান্যতা ইত্যাদির শিক্ষা দিয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেন:
 

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, মানুষেরও নিকটবর্তী এবং জাহান্নাম থেকে দূরে, আর বখীল হল আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে এবং জাহান্নামের কাছে। দানশীল মুর্খ ব্যক্তিও আল্লাহর নিকট নফল ইবাদত কারী অপেক্ষা অধিক প্রিয়।


সাদাকা বা দানশীলতা একটি শক্তিশালী ইবাদত। সাদাকার ক্ষেত্রে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এর শিক্ষা অনুসরণ করতে পারি। কারণ তিনি যে সুন্নত বা শিক্ষা রেখে গিয়েছেন সেটাই সর্বশ্রেষ্ঠ। আসুন আমরা দেখি কিভাবে বা কি কি উপায়ে আমাদের মহানুভব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা  আদায় করতেন 


তিনি গরীব মিসকিনদের খানা খাওয়াতেন

একজন ভালো মুসলিম হিসেবে আমাদের উপর দ্বীনি দায়িত্ব যে, আমরা গরীব মিসকিন বা ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াবো, যাতে তারা ক্ষুধার কষ্ট থেকে রেহাই পায়। 
 
আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন সেই ব্যক্তি মুসলিম নয় যে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে 
আমরা যদি এই হাদীসকে মানদন্ড রেখে আমাদের নিজেদের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো, আমরা এই হাদীস আমলের ব্যাপারে অত্যন্ত উদাসীন। আমাদের আশেপাশে অনেক ক্ষুধার্ত মানুষ থাকে যারা আধাপেটা বা না খেয়ে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। তাছাড়া যদি আমরা বাইরের দেশগুলোতে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব অনেক মুসলিম দেশে, স্বাভাবিক যে পরিমাণ খাবার খেয়ে মানুষের পেট ভরে, সেটাও নেই। তাদের নেই চিকিৎসা সুবিধা, নেই পর্যাপ্ত খাবার। 
  
তাদের বাচ্চারা অপুষ্টিতে ভুগছে খাবারের অভাবের কারণেঅতএব আসুন আমরা নিয়ত করি এখন থেকেই, যে আমাদের আশেপাশে ক্ষুধার্ত প্রতিবেশী যারা আছে, তাদেরকে আমরা যে কোনোভাবেই হোক, খাবার অথবা টাকাপয়সা অথবা অন্য কোন উপায়ে সাহায্য সহযোগিতা করব। আল্লাহ তৌফিক দান করুন 


তিনি পানি পান করাতেন




পানির অপর নাম জীবন। মানুষের জীবনে অত্যন্ত অমূল্য এবং প্রয়োজনীয় একটি সম্পদ। পানি মহান আল্লাহ তাআলার অপার নিয়ামত। পানির মাধ্যমে আমরা আমাদের সব কাজ করি। আমাদের পান করার জন্য, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, আমাদের শরীরের আভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকর্ম, ফসলাদি ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে আমাদের পানির প্রয়োজন হয়। হজ্জের সময় ও পানির প্রয়োজন হয়। আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা কোরআন শরীফে এরশাদ করেছেন যে তিনি পানির দ্বারা সমস্ত জীবন দান করেছেন। সোজা কথা, পানি ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনা করা অসম্ভব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন পানির অপচয় রোধ কিভাবে করতে হয় এবং আরো শিখিয়েছেন এই পানি নামক সম্পদ আরেকজনকে সাদাকা করে কিভাবে নেকি অর্জন করা যায়
  

সাদাকার অন্যতম উত্তম উপায় হল পানি পান করানো। আমরা আমাদের আশেপাশে পানির তেমন সমস্যা অনুভব করি না বটে, কিন্তু পরিসংখ্যান বলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭৯ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি বা পরিষ্কার পানি থেকে বঞ্চিত। প্রতি বছর আনুমানিক আট লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার মানুষ দূষিত পানি পান করার ফলে ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগে মৃত্যুবরণ করে। একটি পরিসংখ্যানে পাওয়া যায় যে, আনুমানিক ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন মানুষ পানির অভাব এর সম্মুখীন হবে।


এতিমের ভরণ পোষণ করা অথবা সাহায্য করা

শিশুরাই জাতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ। তারাই আমাদের পৃথিবী কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। কাজেই আমাদের উচিত আমাদের শিশুদের সঠিক ভরণ পোষণ করা, লালন পালন করা, তাদের দেখভাল করা, তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে তাদের কাজে সাহায্য করা এবং এভাবে তাদেরকে তাদের যৌবনে পৌঁছে দেয়া। শিশুর পিতা মাতা শিশুর ভরণ পোষণের জন্য দায়িত্বশীল। সেই সাথে তার আর্থিক ও সামাজিক শিক্ষা এবং সবক্ষেত্রে সহযোগিতা করা তাদের দায়িত্ব।
 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি এবং ইয়াতীমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এত পাশাপাশি থাকবে। এ বলে তিনি তাঁর দুই অঙ্গুলী অর্থাৎ মধ্যমা এবং তর্জনী ইশারা করে দেখালেন। সহীহ, সহীহাহ ৮০০, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৯১৮

যদি বাবা-মা থাকে তাহলে শিশুর এই দায়িত্ব পালন বাবা মা করে থাকেন। কিন্তু যে সমস্ত শিশুর বাবা-মা নেই, ছোটবেলায় মারা গিয়েছে, অথবা বাবা নেই শুধু মা আছে অর্থাৎ এতিম, তাদের ক্ষেত্রে কি হবে?!!! তাদেরও তো সহযোগিতা, সাহায্য বা সাপোর্ট দরকার হয়। কিন্তু কে দিবে সেই সাপোর্ট। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে অবশ্যই আমাদেরকে আমাদের আশেপাশের এতিম ছেলে মেয়ে যারা আছে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে। 
বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২০০ মিলিয়ন ছেলে মেয়ে এতিম অবস্থায় আছে। তাদের মানসিক এবং আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন ও রয়েছে। সাহায্য পেলেই তারা তাদের মৌলিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান এ চাহিদা পূরণ করতে পারে। কাজেই আসুন আমরা চেষ্টা করি আমাদের আশেপাশের যে সমস্ত এতিম ছেলে মেয়ে রয়েছে তাদের দিকে লক্ষ্য করি, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করি এবং সম্ভব হলে তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করি। 
আল্লাহ তৌফিক দান করুন।

তিনি বিধবাদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন


 
 
একজন নারী যখন স্বামী হারায় তখন মানসিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে খুবই নাজুক অবস্থায় পড়ে যায়। একজন বিধবা দ্বীনি বোন কে একাই তার সন্তান এবং পারিপার্শ্বিক সমস্যাগুলো সামলাতে হয়। বিশেষ করে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এ সমস্যা খুবই প্রকট এবং জটিল। অনেকেই এ পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে বিপথে চলে যায়। 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বিধবা দ্বীনি বোনদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
মিসকীন ও স্বামীহীনদের (বিধবা) ভরণ-পোষণের জন্য যে ব্যক্তি উপার্জনের প্রচেষ্টা চালায় সে আল্লাহর পথে মুজাহিদের মত বা ঐ ব্যক্তির মত পূন্যের অধিকারী সে হবে যে ব্যক্তি দিন ভর সিয়াম পালন করে এবং রাত ভর আল্লাহর জন্য দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২১৪০, বুখারী ও মুসলিম, তিরমিজী

তাই বিশেষ করে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যারা বিধবা আছেন দ্বীনি বোন আছেন তাদেরকে আমরা তাদেরকে আমাদের উচিত তাদেরকে বিশেষ ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা।

শেয়ার করে অন্য কোন এক ভাইকেও আমল করার সুযোগ দিন।

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: