Shirk-somorpon-Shomorpon

সাতটি বহুল প্রচলিত শিরক (Shirk) Leave a comment

শির্‌ক কথাটি আমাদের সামনে আসলে আমাদের মনে কিছু প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। যেমন মূর্তি পূজা করা অথবা আগুনের পূজা করা অথবা খ্রিস্টানরা যিশুখ্রিস্টের পূজা করছে, বিবি মরিয়মের পূজা করছে সে দৃশ্যগুলোর। সোজা কথা আমাদের মনে শুধুমাত্র অমুসলিমদের কথাই জেগে ওঠে।
কিন্তু মুসলিমরা ও যে অনবরত গোপন শিরক এবং প্রকাশ্য শির্কে লিপ্ত আছে সেটা কিন্তু আমরা ভাবি না। আসলেই কি আমরা মুসলমানরা শির্ক থেকে মুক্ত? নিজের বুকে হাত দিয়ে আপনি কি নির্দ্বিধায় এ দাবি করতে পারবেন?
আপনি, আমি, আমরা কি হলফ করে বলতে পারি, যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা কোনোভাবেই শির্ক করিনা?
আমাদের জ্ঞানী ওলামারা শিরককে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। বড় শির্ক ও ছোট শির্ক এবং গোপন শিরক।
আমরা সাধারণভাবে বড় শিরকের ব্যাপারে খুব সচেতন। যেমন মূর্তিপূজা না করা, কবরে সিজদা না দেওয়া, মাজারে সেজদা না দেওয়া, পীরের গোলামী না করা ইত্যাদি।কিন্তু এছাড়াও যে বাকি দু’প্রকার শির্ক রয়েছে সে ব্যাপারে অধিকাংশ মুসলিমরা উদাসীন।
আজ আমরা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত শিরক এর ব্যাপারে কিছুটা আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ।

রিয়া করা (Show-off Shirk)

বর্তমান সময়ে বহুল প্রচলিত শিরক হচ্ছে রিয়া অর্থাৎ লোক দেখানো ইবাদত করা। সবাই চায় তাকে মানুষ ভালো মনে করুক, মানুষ তাকে সম্মান দিক। এজন্য অনেকেই অন্য মানুষকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিভিন্ন এবাদত করে থাকে। যেমনঃ দান-খয়রাত, নামাজ, সমাজসেবা, পরোপকার ইত্যাদি। এগুলো করার একমাত্র লক্ষ্য যেন মানুষের কাছে নিজেকে ভাল হিসেবে তুলে ধরা যায়।
তবে, সবাই কিন্তু লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করে না। কাজেই সাধারণভাবে যে কারো ক্ষেত্রে এরকম ধারণা করা ঠিক হবে না, যে এই ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, লোক দেখানো যে কোন ইবাদতই বাতিল। আমাদের প্রিয় নবী রাসুল সাঃ এরশাদ করেন যে তিনি তাঁর উম্মতের মধ্যে সবচাইতে বেশি ভয় করেন লোক দেখানো ইবাদত।

যেমনঃ উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি হয়তো কোথাও দান করেছেন। হতে পারে কোন মাদ্রাসা, মসজিদ এবং এরপর সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। অথবা আপনি খুব ভালো তাজবীদ সহকারে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। আপনি একটি কোরআন তেলাওয়াতের ভিডিও অডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে দিলেন। এই দুইটি কাজের মাঝে রিয়ার মত ভয়াবহ গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। হয়তো মনে হতে পারে আমার নিয়ত শুদ্ধ। কিন্তু শুদ্ধ নিয়ত খুব সহজেই নষ্ট করে দিয়ে সেটাকে গুনাহে পরিণত করাই শয়তানের কাজ। তবে কেউ এটা করলেই যে রিয়া হবে তা না। যদি কারো নিয়ত পরিপূর্ণ শুদ্ধ থাকে এবং এইরকম নিয়ত থাকে যে নেক কাজ প্রদর্শন করার মাধ্যমে আরেকজনকে সেই নেক কাজে উদ্বুদ্ধ করা, সেক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ আশা করা যায় সমস্যা হবেনা। তবে এই কাজটি খুবই জটিল।

সালাত বা নামাজ ছেড়ে দেওয়া (Abandoning Salah is Shirk)

ঈমানদার এবং কাফেরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ। তাই অধিকাংশ আলেমদের মতে, যখন কোন ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয়, সে তখন কুফরী করে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন, যেকোনো ব্যক্তি এবং শির্কের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ। যে নামাজ ছেড়ে দিল সে যেন কুফরী করল।

সুনানে ইবনে মাজাহ

উপরের হাদিসের আলোকে আসলেই আমাদের ভাববার সময় হয়েছে, আমরা নামাজ ছেড়ে দিয়ে শির্ক করছি কিনা। অনেক ঈমানদার আছে যারা নামাজ পড়ে না অথচ নিজেদেরকে ঈমানদার হিসেবে মনে করে। তারা আসলে নামাজ ছেড়ে দিয়ে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

What is the true meaning of shirk and what are its types?

Will Allaah forgive someone who commits shirk? How can he strengthen his faith?

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা (Oath Shirk)

হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একজন ব্যক্তি কে বলতে শুনেছি, কাবার কসম. আমি তখন তাকে তিরস্কার করলাম এবং বললাম, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর মাধ্যমে শপথ করবে না। কারণ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর নামে শপথ করে সে যেন কুফরী অথবা শির্কে লিপ্ত হয়।
আজকালকার যুবকদের বা কিশোরদের অনেকেরই মাঝে একটা ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যায় যে, তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে সহসাই শপথ করে বসে। যেমনঃ কোরআনের কসম, আমার জানের কসম, ইত্যাদি।
ইসলাম এই ব্যাপারটাকে খুবই কঠিন ভাবে নেয়। আমরা কোনভাবেই আমাদের নিজেদের, আমাদের বাবা মায়ের বা সন্তানের নামে শপথ করতে পারবো না। যদি শপথ করতেই হয়, তাহলে শপথ করতে হবে আল্লাহর নামে।

আল্লাহর চেয়ে কাউকে বেশি ভালোবাসা (Shirk in Love)

যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি আল্লাহর চেয়ে কাউকে বেশি ভালোবাসেন? আপনি কি বলবেন? শুধু আমি আপনি না, বেশিরভাগ মানুষই বলবে, আমি অবশ্যই আল্লাহকে বেশি ভালোবাসি। কিন্তু সত্য কথা হলো, আমাদের এই কথা এবং কাজের কোন মিল বাস্তবে নেই। অর্থাৎ মুখে আল্লাহকে বেশী ভালোবাসার কথা দাবি করলেও কাজে তা প্রকাশ পায় না। আমরা বলি যে, আমরা আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমাদের কাজে তা প্রমাণ করার স্কোপ যখন আসে, তখন খুব দ্রুতই তাদের নাফরমানীর মাধ্যমে আমরা সেটা নাকচ করে দেই। আমরা আমাদের সন্তান, স্ত্রী অথবা স্বামীদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়ে আসলে বেশি ভালোবেসে থাকে। এর প্রমাণ আমাদের কাজে কর্মে প্রকাশ পায়। একটা উদাহরণ হচ্ছে, যখন নামাজের সময় হয়, তখন আমরা ঠিক একই সময় টেলিভিশনের কোন একটি সিরিয়াল চলছে, সেটা দেখতে থাকি। নামাজের ব্যাপারে ভাবি, ঠিক আছে সিরিয়াল টা শেষ হলে পরে নামাজটা পড়ে নেব। নামাজ তো আর মিস করছি না, হয়তো জামাত করছি না।

কুসংস্কার এবং কুলক্ষণে বিশ্বাস করা (Shirk in Omen)

আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস’উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

কুলক্ষণে বিশ্বাস করা হচ্ছে শিরক, আমাদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বরং আল্লাহর উপর নির্ভর করলে, তিনি মানুষের বিপদ দূর করে দিবেন।

আল-আদাবুল মুফরাদ

যদি আপনি অথবা আমি বিশ্বাস করি যে, বাসা থেকে বের হবার আগে হাঁচি দিলে সেটা আমার জন্য খারাপ অথবা এক শালিক দেখলে ভাগ্য খারাপ হবে আর দুই শালিক দেখলে ভাগ্য ভালো হবে। তাহলে সেটা অবশ্যই শিরক হয়ে যায়।

বিজ্ঞানের আলোকে রোজার (Fasting) উপকারিতা

The brazen bull (এক মধ্যযুগীয় বর্বরতার কথকতা)আমাদের জীবনে গুনাহের ৬ টি কুপ্রভাব

আল্লাহর চেয়ে কাউকে বেশি ভয় করা (Shirk in fear)

আল্লাহ্‌ ছাড়া কাউকে ভয় না করা প্রত্যেক মুমিনের অবশ্য কর্তব্য। মুমিন শুধু আল্লাহকেই ভয় পাবে। যদি কখন ও এমন হয় যে, কেউ কোন মানুষকে আল্লাহ্‌ থেকে বেশী ভয় করে এ কারণে যে, সেই মানুষটি তাঁর ক্ষতি করতে পারে, তাহলে এটা হয়ে যাবে শির্ক।

তবে এটা ঠিক, অনেক মানুষই আছে যারা অনেক ক্ষমতার অধিকারী। যাদের ক্ষমতা আছে আমাদের বড় ক্ষতি করা। কিন্তু আমাদেরকে একমাত্র ভয় করতে হবে আল্লাহকেই। কারণ তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কাজেই তাঁর উপরই আমাদেরকে ভরসা করতে হবে।
তবে, আমরা অনেক সময় আচমকা বাঘ, বা সাপ ইত্যাদি প্রাণী দেখে ভ্য পাই। এটা আমাদের ফিতরাগত। তাই এ ধরণের ভয়ে কোন সমস্যা নেই।

আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া (Shirk in help)

আমরা মাঝে মাঝে আমাদের বিশেষ কিছু প্রয়োজনে অন্য মানুষের কাছে ধরনা দিয়ে থাকি। কারণ কাজটা সেই ব্যক্তির এখতিয়ারে। কিন্তু এ ধরণের কাজ আদায় করতে গিয়ে অনেক সময়েই সেই ব্যক্তির উপরে নির্ভরতা চলে আসে। সেই ব্যক্তির নিকট সাহায্য চাওয়ার সময় দেখা যায় যে, আমাদের অন্তরের ভাবটা একটূ পরিবর্তিত হয়ে যায়। আল্লাহকে বাদ সিয়ে শুধু সেই ব্যক্তির কাছে একচ্ছত্র সাহায্য চাওয়ার মতো হয়। এটা নিঃসন্দেহে শির্ক। কারণ মানুষ এক্ষেত্রে অন্য মানুষকে মনে মনে মহান আল্লাহর স্থানে বসিয়ে দেয়। (নাউযুবিল্লাহ্‌)।

এর মানে এই নয় যে, আমরা মানুষের কাছে সাহায্য চাইবোনা। অবশ্যই সাহায্য চাবো। তবে, সবার আগে আল্লাহর কাছে চাবো। এরপর আল্লাহর উপর ভরসা করে মানুষের কাছে নিজের প্রয়োজন পেশ করবো। মনে বিশ্বাস রাখবো, আল্লাহ্‌ না চাইলে এই লোকের সাহায্য করার কোন ক্ষমতা নেই।

বর্তমানে ফিতনার যামানায় খুব সহজেই শির্ক এ লিপ্ত হতে পারি আমরা। এজন্য দরকার সঠিক জ্ঞান এবং মহান আল্লাহর সাহায্য। আল্লাহপাক আমাদেরকে শির্ক হতে হেফাযতে রাখুন। আমিন।

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: