সুরা যিলযালের ৫টি শিক্ষা Leave a comment

সুরা যিলযাল কুরআনের ৯৯তম সুরা, যে সুরায় ক্বিয়ামতের ভয়াবহতা খুব সুন্দর এবং সুচারুরুপে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরা থেকে যে প্রধান ৫টি শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলঃ

১।        প্রকম্পিত হওয়া এই পৃথিবীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।    

সুরায় বর্ণিত হয়েছেঃ

“যখন পৃথিবী প্রবল প্রকম্পনে প্রকম্পিত হবে।” (৯৯:১)


এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলাহি (রহঃ) বলেছেন,

“এই আয়াতের সঠিক অর্থ হচ্ছে যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে যেভাবে পৃথিবীর প্রকম্পিত হবার কথা অথবা পৃথিবী যখন কম্পিত হবে যেভাবে এর কম্পিত হবার কথা। আরেকভাবে বলতে গেলে পৃথিবীর এই কম্পন কেমন হবে সেটা মানুষের কল্পনারও বাহিরে। কেউই সেই অবস্থা কল্পনা করেও উপলব্ধি করতে পারবেনা। যেভাবে এই পৃথিবী ওইদিন ওলট পালট হবে, ঝাকুনি দিবে, উল্টা পাল্টা হবে, তা কল্পনাতীত। তাই প্রত্যেক বান্দার উচিৎ এই ব্যাপারে সাবধান থাকা এবং নিজের আমলকে সে অনুযায়ী পরিচালিত করা। (ইসলাহি-২) 

২।       পৃথিবী তার ভেতর যা কিছু আছে সব উগড়ে দেবে।  

      

“এবং পৃথিবী তার ভেতর যা আছে তা বের করে দিবে” (৯৯:২)


এখানে ثقل শব্দের অর্থ হল বোঝা অথবা ওজন। এখানে একদিকে যেমন সেই সমস্ত মানুষদের বোঝানো হয়েছে যারা মৃত্যুবরণ করেছে এবং দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় কবরস্থ হয়েছে বা ছড়িয়ে হিটিয়ে আছে। এদের সবাইকে সেদিন বের করা হবে হাশরের ময়দানের বিচারের জন্য। সবাইকেই একত্র করা হবে। অন্য বর্ণনায়, বোঝা বলতে সে সমস্ত খনিজ, স্বর্ণ রৌপ্য বোঝানো হয়েছে যা দুনিয়ার বুকে লুক্বায়িত ছিল এবং যেগুলো পাওয়ার জন্য মানুষ পরস্পর হত্যায় লিপ্ত হতো।  

৩।      প্রাণহীন বস্তু হাশরের ময়দানে মানুষের পক্ষে বা বিপখে সাক্ষ্য দিবে।

      

“এই দিন, পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ আপনার রব্ব আদেশ করবেন” (৯৯:৪-৫)


আমাদের চারপাশে সমস্ত কিছুই আসলে সাক্ষী হয়ে আছে। আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে শুরু করে আমাদের হাত পা, চোখ, কান এই সমস্ত কিছুই হাশরের ময়াদানে আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। এই পৃথিবী হবে সাক্ষী সমূহের মধ্যে সবথেকে বড় সাক্ষী। কারণ মানুষ যা কিছুই করে, এই পৃথিবীর উপরের করে থাকে। পৃথিবী পৃষ্ঠের বাইরে গিয়ে কখনও করেনা। প্রত্যেক আদম সন্তানের পক্ষে বা বিপক্ষে এই পৃথিবী সাক্ষ্য প্রদান করবে, হাশরের ময়দানে। 

৪।       হাশরের ময়দানে পরিবার, বন্ধু, সম্পদ কোনই কাজে আসবেনা। 

“সেদিন মানুষকে দলে দলে ভাগ করা হবে-যাতে তাঁকে তার আমল দেখান হবে।”(৯৯:৬)

হাশরের ময়দানে সমগ্র মানবজাতি কবর থেকে উত্থিত হয়ে এক জায়গায় সমবেত হতে থাকবে। একজন আহ্বানকারীর ডাকে সবাই সারা দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছবে। সেদিন কেউ কাউকে চিনবে না। না পিতা তার সন্তানের উপকারে আসবে, না সন্তান তার পিতার উপকারে আসবে। দুনিয়ার মান মর্যাদা, সহায় সম্পত্তি কোন এ আসবেনা। সবাই যার যার হিসেবের জন্য একা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকবে। 

৫।       কোন আমলকেই ছোট মনে করা উচিৎ না

“কেউ সরিষা পরিমাণ নেক আমল করলেও তা দেখতে পাবে।” (৯৯:৭)


আমাদের স্বাভাবিক মনোবৃত্তি হল সবসময় বড় আমলগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ছোট ছোট আমলগুলো উপেক্ষা করা। কিন্তু এটা অত্যন্ত বড় একটা ভুল আমাদের। কারণ কোন আমল মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হবে তা আমরা জানিনা। ছোট ছোট পানির কণা মিলে যেমন মহাসাগর রচিত হয়, তেমনি ছোট আমল জমে জমে ও পাহাড় পরিমাণ নেকী হাসিল হতে পারে, যা নাজাতের কারণ।
  
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, 

“কোন এক আমলকেই ছোট মনে করোনা, যদিও সেটা তোমার ভাইএর সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করা ও হয়” (মুসলিম-২৬২৬)

তেমনিভাবে ছোট ছোট গুনাহকে গুনাহ মনে না করে করতে থাকলে সেটিও একসময় পাহাড়ের আকার ধারণ করে ধংসের দিকে নিয়ে যায়। 

“এবং যে সরিষা পরিমাণ বয়ামল করবে, সেটা সে দেখতে পাবে” (৯৯:৮)


রাসুল (সাঃ) ছোট গুনাহ থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে আদেশ করেছেন।

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: