স্ত্রীর সাথে সদ্‌ব্যবহার (Love your Wife) Leave a comment

শাইখ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ তাঁর কোন এক মাহফিলে স্বামী স্ত্রী সম্পর্কে কিছু বয়ান করছিলেন। সেই বয়ানের অংশ বিশেষ, যা আমল করা খুব এ সহজ, আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলঃ

বউকে গালি দিবেন না। (Do not call her by bad names)

এইখানে আপনাকে আমি একটা কথা বলছি বউকে মারিইয়েন না। বউ কে গালি দিয়েন না। বউয়ের নিন্দা কইরেন না। শতদিন বলছি, ভুলেও কখনো বলবেন না তোমার রংটা কালো, ভুলেও কখনো বলবেন না তোমার ঠোঁটটা মোটা। নিন্দা করবেন না। কখনো শ্বশুর-শাশুড়িকে গালি দিবেন না। শুধু প্রশংসা করবেন। মহিলা মানুষ খালি প্রশংসা প্রিয়। কোথাও যেতে দিবেন না। বাড়িতে রাখবেন। খুব প্রশংসা করবেন। দিনরাত আপনার সেবা করে দিতে রাজি আছে, সারারাত পা টিপে দিবে। প্রশংসা করেন সমস্যা নেই। নিন্দা করলে সব যাবে। একবার যদি নিন্দা করেন যে তোমার ঠোঁট মোটা, তাহলে এক গ্লাস পানি চাইলে এভাবে ঠ্যাক্‌ করে রেখে দিবে। ঐ দিকে চলে যাবে। খবরদার নয়।

বউকে নাম ধরে ডাকবেন (Call by beautiful Nick name)

আর আপনাকে আরেকটা কথা বলছি, নাম ধরে ডাকবেন, নাম ধরে। আর নিজের কাজ নিজে করিয়েন না। বউকে করতে বলবেন। বলবেন, খালেদা জুতাজোড়া কোথায় নিয়ে আসো তো, খালেদা, জামাটা কোথায় আছে নিয়ে আসো। নিজে নিজে যদি জুতা খোঁজেন তাহলে স্ত্রী বলবে, আমার উপরে রাগ করেছে সেজন্য আমাকে বলে না। সব সময় নাম ধরে বলবেন। মাছ কিনে নিয়ে এসেছেন, মাছতো, মাছ কিনে নিয়ে এসে মাছ বউকে বাঁচতে দিয়ে নিজে বসে থাকবেন পাশে। নিজে বাছবেন না। না হলে আপনি বেটি ছেলের কাজ করছেন। আপনার মান কমে যাবে। আপনার তো এদিকে অভ্যাস ভালো আছে। বউয়ের কাজ করেন। ভালো তাইনা। বউ শুয়ে থাকে আর আপনি মাছ বাছেন। পাশে বসে থাকবেন আর মাছটা বউকে বাছতে দিবেন। কথা বলবেন ও খুশি হবে, কাজ করবে, নিজে করিয়েন না। আর আপনি নিজে কাজ করছেন কেন জানেন? আপনার বউয়ের ব্যক্তিত্ব নাই সেজন্য। আপনার হাত থেকে বউয়ের কাজটা আপনার স্ত্রীকে আপনার হাত থেকে তার নিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। আরে বসো, তুমি মাছে হাত দিচ্ছ কেন? আমি বাছছি তুমি পাশে বসে থাকো। এইটা হল ভালবাসার পদ্ধতি।

নিজের কাজ বাড়ির কাজ বউকে করতে দেন (Let her do job)

নিজের কাজ বাড়ির কাজ বউকে করতে দেন। নাম ধরে ডাকবেন খুশি হবে। আর নিজের কাজ নিজে করিয়েন না, করতে বলিয়েন। নিজের কাজ নিজে করলে বলবে আমার ওপর রাগ করেছে সেজন্য বলে না। ভালোবাসা এভাবেই গড়ে উঠবে।

বউকে হাটে বাজারে পাঠায়েন না (Do not send to market)

আর পুরুষের পরিচয় নিয়ে থাকেন, কাপুরুষ হইয়েন না। পুরুষের পরিচয় মানে? চোখ যেভাবে ঘোরে বউ সেভাবে চলে, তার নাম পুরুষ। বউ যেন যেখানে-সেখানে না যায়, হাটে বাজারে না যায়। বাজার কিনা বন্ধ থাকলে মানে বাসায় মেহমান এসেছে, কোন তরিতরকারি নাই কিন্তু বউ বাজার থেকে তরকারি আনতে পারবে না আপনি নিজে যাবেন। বউকে হাটে-বাজারে পাঠাযইয়েন না। নীতি পরিবর্তন করেন।

শেষ কথা (Last words)

পরিবারের সাথে ভালো আচরণ করবেন। পরিবারকে গালি দিবেন না, অযথা মারবেন। গালি দিবেন না, মারবেন না। স্বর্ণ দিয়ে ঘর বানালেও তৃপ্তি হবেনা শান্তি হবেনা বউ ছাড়া। মখমল জাতীয় কাপড়ের বিছনা সাজলেও শান্তি হবেনা তৃপ্তি হবে না বউ ছাড়া। আল্লাহ বলছেন আমি আল্লাহ শান্তি তৃপ্তি সব তোমার বইয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছি। অতএব আল্লাহ বলছেন যার কাছে শান্তি তৃপ্তি আছে তাকে হাটে বাজারে পাঠাইয়েন না, তাকে ব্যাংকে চাকরি করতে পাঠাইয়েন না। তাকে ইস্কুল কলেজে শিক্ষকতা করতে পাঠায়েন না। তাকে ঢেকে রাখবেন, ঘেরে রাখবেন। আদর করে রাখবেন। ঢেকে রাখবেন, ঘিরে রাখবেন, আদর করে রাখবেন। ওরা এত আদরের, ওরা এত আদরের, ওরা এত আদরের, ওরা হচ্ছে বগুড়ার সোনাতলার হাটের আদরের মালশা। ওদের আদর করতে হয়, ওদেরকে ঘিরে রাখতে হয়, ওদের ঢেকে রাখতে হয়। পরিবারকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করুন, শান্তি পাবেন।

Leave a Reply

SHOPPING CART

close
%d bloggers like this: